ওর খুব কাছে এসেছিলাম, যার কথা দিয়েছিলাম আমি

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   

তুমি যদি কখনো আমাকে ছেড়েছো তাহলে একটা পিস্তল কিনবো সেখানে ছয়টা গুলি থাকবে তিনটা ঠিক তোমার বুকের বাম পাশে মারবো আর তিনটা আমার এই মস্তিষ্কে। তারপর তোমাকেও বাঁচতে দিবো না আমিও বাঁচবো না। আর তুমি যদি কোন মেয়ের জন্য আমাকে ছেড়েছো? তাহলে কি করবো জানো? আমার ভাগের তিনটা গুলি আমি সেই মেয়েকে মারবো। আগে মেয়েকে মারবো তারপর তোমাকে।
সেদিন বুঝবে কতটা ভালোবাসি।
.
.
কি অদ্ভুত তাইনা? কথা গুলো আজ থেকে ঠিক সাড়ে তিন মাস আগে আবিদ কে বলেছিলাম। সেদিন সে হেসেছিলো আর বলেছিলো সত্যি তুমি একটা পাগলী। কেউ এমন টা বলে? আমি শুধু তোমাকে ভালোবাসি, তোমাকেই বাসবো।
গুনে গুনে চার চারটে ধরে বছর আমার সাথে সম্পর্ক। কতই না স্বপ্ন।
বিয়ে থেকে শুরু করে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সব কিছু নিয়েই ভাবতে ভাবতে দিন কেটে যায়।
.
ছোট্ট একটা সংসার হবে। আমাদের বাড়ি থাকবে বাসা নয়।
বাসা তে কোন গাছ থাকে না, বাড়িতে থাকে অনেক গাছ। প্রতিদিন সকালে আমি তাকে ঘুম থেকে উঠাবো, সে উঠবে। নামাজে যাবে আমিও নামাজ পড়বো। ফিরে আসার আগেই তার জন্য গরম গরম কফি বানিয়ে রাখবো। সকালের স্নিগ্ধ পরিবেশে গাছের নিচে বসে দুজনে কফি খাবো এবং প্রতিদিনের সকাল টা দেখবো। দিনের শুরুতে এক কাপ কফি দুজনে শেয়ার করে খাবো। তারপর সে বাজারে যাবে। আমি সকালের নাস্তা রেডি করবো এসে প্রতিদিন তাড়াতাড়ি করবে কাজ না থাকলেও এবং বায়না করবে খাইয়ে দাও তো। একটু বকা দিবো কিন্তু নিজের হাতে খাইয়ে দিবো।
হাজার টা বায়না করবে সেগুলো সব করবো।
আমাদের প্রথম সন্তান যেদিন এই পৃথিবী তে আসবে সেদিন বাগানে তিনটে গাছ লাগাবো। বেড়ে উঠবে আমাদের সন্তানের সাথে।
.
.
-এই চলো তো?
-কোথায়? (আবিদ)
-বিয়ের শাড়ী কিনবো।
– পাগলী বিয়ের এখনো অনেক দেরী। ফ্যামিলি কে তো বলতে হবে?
– ফ্যামিলি কে বলার সাথে বিয়ের শাড়ী কেনার সাথে কি সম্পর্ক?
– আচ্ছা, সব ঠিকঠাক হলে যখন তখন কিনে আনবো পাগলী।
– এখনি।
– তোমার প্রচুর জেদ। বাচ্চা দের মতো
.
সেদিন বিয়ের জন্য নীল বেনারসি কিনেছিলাম।
কিন্তু বিশ্বাস ঘাতকের অনেক রুপ। এরা ভালোবাসতে পারেনা শুধু পারে ঠকারে ব্যবহার করতে।
সব জানার পর ও পারে অভিনয় করতে।
.
খুব ভালো অভিনয় ছিলো।চারটে বছরের অভিনয়। কখনো ভালোবাসেনি সে আমায়।
পরিবার কে বলার জন্য যখন চাপ দিয়েছিলাম একদিন জানতে পারি মামাতো বোনের সাথে বিয়ে ঠিক। কি অদ্ভুত তাই না? ওর মামাতো বোন আমাদের সম্পর্ক এর কথা সব জানতো। তারপরেও বিয়েতে রাজি হয়ে গিয়েছিলো। কষ্ট পাইনি। সত্যি একটুও কান্না করিনি। যখন সে বলেছিলো আমাকে বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব নয় কারণ সে তার বাবা মায়ের অবাধ্য হতে সে পারবে না এবং নিতু কেউ কষ্ট দিতে পারবে না।
কষ্ট লাগেনি। কান্না করিনি শুধু মনে হয়েছিলো কেউ একজন আমার গলা টা চেপে ধরেছে আমি শ্বাস নিতে পারতেছি না।
বুকের ভিতর কেউ অনবরত চাকু দিয়ে আঘাত করছে।
.
নিতু কে অনেক বলেছি শেষ পর্যন্ত পায়েও ধরেছিলাম আমার আবিদ কে ফিরিয়ে দাও। কিন্তু আবিদ সেদিন বলেছিলো
প্রেম সবার সাথে করা গেলেও বিয়ে সবাই কে করা যায় না।
.
আজ ওদের বিয়ে। বেশ খানিক টা নিজেকে সামলিয়ে নিয়েছি। মেয়ে মানুষ তো নিতেই হবে।
বিয়েতে ইনভাইট করেনি তবুও তাদের জন্য সেরা উপহার নিয়ে যাচ্ছি।
নীল বেনারসি টা, হুম নীল বেনারসি।
বিয়েটা ওদের হয়েছিলো,একটু পর বাসর রাত। যেরাতের জন্য অপেক্ষা করে আছে। কতই না স্বপ্ন ছিলো আমার।
অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলো, আবিদ। আশা করেনি আমাকে। কারণ নতুন বউ তো নিতু। তাহলে বউ সেজে আমি কি করে? একটু চিন্তা করছিলো কিন্তু নেশার ঘোরে হয়তো বলতে পারছিলো না। ক্রেডিট টা অবশ্য নিতুর। মেয়েটা তো একটু বেশি আধুনিকা, তাই ড্রিংক করা স্বভাব ছিলো। যা আমার জন্য আজ খুব করে সুযোগ করে দিয়েছে। আমার ভালোবাসা কে ফিরে পাওয়ার জন্য। আমি আমার ভালোবাসাতে কারো ভাগ দিতে পারবো না। ওর খুব কাছে এসেছিলাম, যার কথা দিয়েছিলাম আমি।
হয়তো ভাবছিলো ও ওর দেওয়া প্রত্যেক টা কথা ভেঙে দিয়েছিলো তো আমি কেনো রাখছি?
কথা দিয়ে কথা না রাখা তো মুনাফিকের লক্ষণ। তাই তো আজ কথা রেখেছি।
পিস্তলের তিনটে বুলেট আবিদের বুকের বাম পাশে বিদ্ধ অবস্থায়। রক্ত ঝড়ছে। খাটের নিচে নিতুর লাশ। রক্তের গন্ধে বমি আসে তবে আজ জাগাচ্ছে এক মাদকতা। বিশ্বাস ঘাতকের রক্তের মাদকতা।

Comments

comments